বুদ্ধিজীবী দিবসের সভায় বক্তব্য ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস–২০২৫ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে উপজেলায়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. আলম বলেন, সব জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে দেখা গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দলটির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি জানান, এ দিন জামায়াত কী বক্তব্য দেয় তা শোনার উদ্দেশ্যেই তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন।

তবে অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি গোলাম আজম আসলাম উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন। তিনি তার বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে, সন্ধ্যায় নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আব্দুর রশীদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. আলমের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারির অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জামায়াত সম্পর্কে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অসৌজন্যমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, অতীতের সব জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এসেছে, যা কারও অজানা নয়। আজকের সভাতেও জামায়াতের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পোস্টে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা বা সমস্যাজনিত কারণে অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এমন বক্তব্য মূলত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সভায় অন্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি, যা থেকে বক্তব্যটির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি এ ধরনের মন্তব্যের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা নিয়ে ঈর্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. আলমের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *