হাবিবুল্লাহ মিঠু : একটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান কেবল অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করে না। অনেকাংশেই তা নির্ভর করে দায়িত্বে থাকা মানুষের মানসিকতা ও মানবিক বোধের ওপর। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করা এমনই একজন মানবিক চিকিৎসকের নাম ডাক্তার আসাদুজ্জামান। একটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ‘নাই নাই’ দেখতে গেলে অনেক কিছুই দেখা যাবেনা। কি আছে, অন্য পাঁচটা উপজেলা হাসপাতালের চেয়ে এখানে, আপনি কতটুকু পেয়েছেন এমন অনুভব করলে দেখবেন হয়তো অনেক কিছুই পেয়েছেন! হয়তো এই লেখাটি যখন কেউ পড়ছেন ভাবতে পারেন দালালি। দালালি গালাগালি খুব সহজেই করা যায়। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করি আমরা কতজনে? যাক ওসব কথা। আমি একজন সংবাদকর্মীই নয়; স্থানীয় বাসিন্দাও বটে। তাই আমি চাইব এই হাসপাতালের আরো যেন উন্নতি ঘটে। হ্যা লিখছিলাম যা নিয়ে।
একসময় ডাক্তার আসাদুজ্জামান এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে তাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু দেখেছি, তিনি মূলত একজন মিশুক, সদালাপী ও সহজপ্রাপ্য মানুষ। দল-মত কিংবা সামাজিক অবস্থান কোনো কিছুর ভিত্তিতেই তিনি মানুষকে আলাদা করেননি। তার চোখে কেউ ছিল ছোট ভাই, কেউ সম্মানিত বড় ভাই, আবার কেউ ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো আপনজন।
বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভরসার প্রতীক। চিকিৎসকের দায়িত্ববোধের বাইরেও তার মধ্যে ছিল গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা। গরিব রোগীদের প্রতি তার সহমর্মিতা ও আন্তরিকতা তাকে সাধারণ পাঁচজন ডাক্তারের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। করোনাকালীন সংকটময় সময়ে তার এই মানবিক ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে। সেই সময় তিনি কেবল একজন চিকিৎসকই ছিলেন না, ছিলেন একজন আশ্রয়দাতা ও সাহস জোগানো মানুষ।
ডাক্তার আসাদুজ্জামানের আরেকটি পরিচয়, তিনি একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও সমাজ ও তরুণদের সঙ্গে তার সংযোগ ছিল সবসময় জীবন্ত। চাইলে তিনি অন্য অনেক চিকিৎসকের মতো নির্ধারিত রুটিনের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেই থেমে থাকতে পারতেন। এমনকি তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে চাকরি ছেড়ে দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রাইভেট চেম্বার খুলে বিপুল সম্পদ অর্জন করাও তার পক্ষে সম্ভব ছিল।
কিন্তু তিনি সে পথ বেছে নেননি। আজ তিনি নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে, কিন্তু বদলায়নি তার মানসিকতা। আগের মতোই তিনি মানবিক, দায়িত্বশীল ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।
বর্তমান সময়ে যখন পেশাগত সাফল্যকে প্রায়ই শুধুই আর্থিক অর্জনের মানদণ্ডে মাপা হয়, তখন ডাক্তার আসাদুজ্জামানের মতো মানুষেরা মনে করিয়ে দেন—মানবিক দায়িত্ববোধই প্রকৃত সাফল্য। এমন মানুষদের জন্যই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আস্থা টিকে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। নেছারাবাদের মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা তার সঙ্গে সবসময় থাকুক।
লেখক: সংবাদকর্মী
