নেছারাবাদে রাতের আঁধারে দোকানঘর দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আজিজুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে রাতের আঁধারে এক কাঠ ব্যবসায়ীর দোকানঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো. চাঁন মিয়া ওরফে চিড়া চাঁন্দুর বিরুদ্ধে। তিনি স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে দেখতে পালন করছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জগন্নাথকাঠি বন্দরের চিড়ার মিল সংলগ্ন এলাকায় “নুরুল্লাহ্ এন্ড ব্রাদার্স” নামে একটি দোকানঘর দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের মালিকানায় ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছিল। গত ১৪ মে গভীর রাতে অভিযুক্ত চাঁন মিয়া কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকান মালিক শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, গত ১৪ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মো. চান্দু মিয়া অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে আমার দোকানের ৬টি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং দোকানে থাকা প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নেয় এবং পরবর্তীতে দোকানঘরটি জোরপূর্বক দখল করে। এবং আমার ভাড়াটিয়াদের জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে দোকানঘর দখল করেছে, ফলে আমি ও আমার ভাড়াটিয়ারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজার কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাই।

শহিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করে বলেন, পূর্বের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, কয়েক বছর আগে প্রতারণার মাধ্যমে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে এ জমি আত্মসাৎ করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় দোকানঘর দখল করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চাঁন মিয়া বলেন, আমি বৈধভাবে জমি কিনেছি এবং সেই জমির দখল নিয়েছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, আদালতই এর সঠিক সিদ্ধান্ত দেবে। তবে রাতের অন্ধকারে দোকান দখল নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে জগন্নাথকাঠি বাজার কমিটির আহ্বায়ক কাজী আনিসুজ্জামান জানান, দোকান দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *