স্বরূপবার্তা ডেস্ক: নেছারাবাদ উপজেলায় মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান। খর্বাকৃতী (বামন) দম্পতি আল আমীন ও শাম্মীর গুরুতর অসুস্থ নবজাতক সন্তানের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন চিকিৎসা কেবল পেশা নয়, এটি দায়িত্বও।
জানা গেছে, সম্প্রতি আল আমীন ও শাম্মীর নবজাতক সন্তান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা চিকিৎসা সেবার আশায় নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। শিশুটির শারীরিক জটিলতা ও পরিবারের আর্থিক অসহায়ত্ব দ্রুতই নজরে আসে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার।
এরই মধ্যে শিশুটির অসুস্থতার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ডা. আসাদুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজ উদ্যোগে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।
চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি মানবিকতার জায়গা থেকেও পাশে দাঁড়ান তিনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আল আমীনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন, যাতে পরিবারটি প্রাথমিক সংকট সামাল দিতে পারে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যক্তিগতভাবে এমন সহায়তা স্থানীয়দের কাছে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই। একজন চিকিৎসক হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। এই শিশুর চিকিৎসার জন্য যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমি পাশে থাকব।
তার এই মানবিক উদ্যোগে এলাকাবাসী ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যখন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অনেক সময় যান্ত্রিক ও নির্দয় বলে মনে হয়, তখন এমন মানুষরাই সমাজে আস্থা ও আশার আলো জ্বালান।
অসহায় একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ডা. আসাদুজ্জামান আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন মানবিকতা আর পেশাগত দায়িত্ব একে অপরের বিরোধী নয়; বরং একসাথেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। নেছারাবাদের এই ঘটনাটি শুধু একটি সহানুভূতির গল্প নয়, বরং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় সেবার একটি শক্ত উদাহরণ।
