পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্তের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘোষণাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রবীণ শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক ও মোঃ শাহ আলম বাহাদুর।
তারা দাবি করেছেন, ইউএনও’র সঙ্গে একটি সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বড় করে দেখিয়ে একটি পক্ষ মানববন্ধনের আয়োজন করছে। বিষয়টি যেহেতু তারা নিজেরাই সমাধান করেছেন, তাই এটিকে অতিরঞ্জিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তারা মনে করছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্বরূপকাঠি হোমিওপ্যাথিক কলেজের মাসিক সভায় অবসরপ্রাপ্ত দুই প্রবীণ শিক্ষক মোঃ শাহ আলম বাহাদুর ও মোঃ ফজলুল হক এবং ইউএনও অমিত দত্তের মধ্যে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করেন। কিন্তু সমাধান হয়ে যাওয়া সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়।
প্রবীণ শিক্ষক মোঃ শাহ আলম বাহাদুর বলেন, “ইউএনও’র সঙ্গে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। সভায় সৃষ্ট সামান্য ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি তখনই মিটে গেছে। অথচ একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে দেখি আমাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা দেখে আমি হতবাক।” তিনি এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।
অপর প্রবীণ শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক বলেন, “যে বিষয়টি আমরা নিজেরাই সমাধান করেছি, সেটিকে ইস্যু বানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং প্রশাসন ও শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” তিনি ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “হোমিওপ্যাথিক কলেজের একটি সভায় শাহ আলম স্যার আমার পাশের চেয়ারে বসা ছিলেন। তিনি সামনে বসা এক বয়স্ক ব্যক্তিকে ডাকছিলেন। তখন সভাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে শুনি, আমি নাকি স্যারদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছি—এমন কথা শুনে আমিও হতবাক হয়েছি।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা ঘটনাটি আর না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
