নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর-২ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য ও ঘোষিত প্রার্থীদের নাম এখন স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। নেছারাবাদ, কাউখালী ও ভান্ডারিয়া নিয়ে গঠিত এই আসনে ইতিমধ্যে পাঁচটি দলের প্রার্থীরা বিভিন্ন মাত্রার তৎপরতা শুরু করেছেন, যা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শামীম সাঈদী সক্রিয়ভাবে মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই এলাকা ধরে রেখেছেন। দলীয় সংগঠনকে কেন্দ্র করে তার প্রচারণা জোরদার হয়েছে।
বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন ভান্ডারিয়া বিএনপির আহ্বায়ক আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন। তিনি তিন উপজেলায় নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও দলীয় সভা-সমাবেশ করছেন। মন্দির, বাজার ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে তার তৎপরতা এখন সবচেয়ে দৃশ্যমান। সংগঠনভিত্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এর বাইরেও বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় রয়েছে মাঠে।
জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের নাম আলোচনায় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে প্রচার দেখা গেলেও সরাসরি মাঠে উপস্থিতি কম চোখে পড়ছে। তবুও স্থানীয় পর্যায়ে তার সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শামস ইশতিয়াক রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজের উন্নয়ন ভাবনাসহ ২৫ দফা অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।
এছাড়া এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. ফয়সাল খান নির্বাচনী এলাকায় ছোট পরিসরে পরিচিতিমূলক গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দলীয় পরিচয় তুলে ধরার কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে পিরোজপুর-২ আসনে এখন পর্যন্ত পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আসায় নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও প্রার্থী যুক্ত হতে পারে কিংবা কিছু দল পরিবর্তন আনতে পারে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
