আমাদের মহান বিজয় দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্ট্যাটাস পড়ে আমি গভীরভাবে হতভাগ হয়েছি। প্রথমবার পড়েই মনে হয়েছিল ১৯৭১ সালে যেন পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়েছে তারাই, আর সব কৃতিত্ব শুধু তাদের সেনাদের! এ কারনে আজকে আমার এই একান্ত আবেগি লেখা।
আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই বিজয়, এই অর্জন আমার সোনার বাংলার সূর্যসন্তানদের। অকৃত্রিম সাহস, অটল দৃঢ়তা আর সম্ভ্রম হারানো সেই অগণিত বোনের অসম্ভব ত্যাগের বিনিময়েই এসেছে আজকের ১৬ ডিসেম্বর।
মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখিনি, শুধু শুনেছি। শুনে এসেছি। স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের নাকি অসামান্য অবদান ছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সহায়তা করেছে ইতিহাসে এ কথা বলা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে মুরব্বিদের কাছ থেকে এটাও শুনেছি, এই সহায়তার বিনিময়ে ভারত বহু স্বার্থ আদায় করে নিয়েছে যা আজও চলমান।
একসময় এসব কথা আমার কাছে হাস্যকর মনে হতো। ভাবতাম এগুলো আবেগ বা অতিরঞ্জন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বুঝেছি, অনেক ক্ষেত্রেই সেই কথাগুলো নির্মম সত্য।
এমন কথাও জনশ্রুতি আছে,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্দিরা গান্ধীকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কবে ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে?’ কারণ বিদেশি সেনা থাকা অবস্থায় কোনো দেশকে পুরোপুরি স্বাধীন বলা যায় না।
আমি যা দেখছি, যা বুঝছি, স্বাধীনতার পর ভারত বাংলাদেশকে সহযোগীতার চেয়ে বেশি শোষণ করেছে। আর স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান আমাদের শোষণ করেছে। তারও আগে দেশভাগের সময় ছিল বৈষম্য আর বঞ্চনার আরেক ইতিহাস। আর তাই, এই দুই দেশের কারও প্রতিই আমার ভালোবাসা জন্মায় না।

নিচে নরেন্দ্র মোদির সেই ইংরেজি স্ট্যাটাসের বাংলা অনুবাদ হুবহু তুলে ধরা হল
“বিজয় দিবসে আমরা সেই সাহসী সৈনিকদের স্মরণ করি, যাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল। তাদের অবিচল দৃঢ়তা ও নিঃস্বার্থ সেবা আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের ইতিহাসে গর্বের এক অনন্য মুহূর্তকে অমর করে রেখেছে। এই দিনটি তাদের বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের অতুলনীয় মনোবলের স্মারক। তাদের বীরত্ব আজও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।”
হাবিবুল্লাহ মিঠু
সংবাদকর্মী
স্বরূপবার্তায় প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণই লেখকের নিজস্ব, এর দায়ভার স্বরূপবার্তা বহন করে না।
