আজিজুল ইসলাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পিরোজপুর জুড়ে জোর গুঞ্জন পিরোজপুর-২ (কাউখালি, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
উল্লেখ্য, তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামিম সাঈদীকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছেন, অবহেলিত পিরোজপুরের উন্নয়নে তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখা সময়ের দাবি। তবে একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী না হলেও তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার ও সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। বরিশাল বিভাগ থেকে নির্বাচিত তরুণ এই সংসদ সদস্য শিক্ষাদীক্ষা, পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক পটভূমির কারণে আলোচনায় রয়েছেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ি সামছুল হক দীপু বলেন, নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যর পরিবারে তার বাবা,মা,চাচাসহ মোট পাচজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যা বিরল ঘটনা। আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে অবহেলিত পিরোজপুর উন্নয়নের ছোঁয়ায় এগিয়ে যাবে। তার মতো মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিত্ব মন্ত্রিসভায় প্রয়োজন।
স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান বলেন, যতদূর জানা যায়, জনাব তারেক রহমান ক্লিন ইমেজ ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিতে পারেন। সে বিবেচনায় পিরোজপুর থেকে সুমন নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, সুমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তিনি সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম মনজুর-এর ছেলে। তার শিক্ষাদীক্ষা ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তির কারণে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার যোগ্য। তিনি মন্ত্রী হলে তা দেশের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি বিএনপির মন্ত্রিসভাও হবে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী।
এদিকে পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে যদি সুমন মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তবে জেলার দীর্ঘদিনের অবহেলা ঘুচিয়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
