নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পূর্ব কামারকাঠি গ্রামসহ স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের বালিহারী গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হঠাৎ ধসে পড়েছে। এতে অন্তত দশ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে জলাবাড়ী ও স্বরূপকাঠী সদর ইউনিয়নের বালিবাড়ী-পূর্ব কামারকাঠী গ্রামের মডেল স্কুল ভায়া ইদিলকাটি সড়কের হাকিম চৌধুরী বাড়ির সামনের খালের ওপর নির্মিত সেতুতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে যাত্রী নিয়ে একটি অটোগাড়ি নড়বড়ে সেতুটি পার হচ্ছিল এ সময়ে হঠাৎ বিকট শব্দে সেতুর মাঝের অংশ ধসে খালের মধ্যে পড়ে যায়। এসময় কয়েকজন পথচারী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। এলাকাবাসী জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করতেন। এই পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতেন, কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যেতেন এবং রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে হতো। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতুর ওপর সুপারি গাছ ফেলে অস্থায়ীভাবে চলাচল করছেন। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্রীজটির প্রায় পনের বছর। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্রীজটি তৈরী হয়েছিল। যে কারনে গেল বছর দেড়েক সময় থেকে ব্রীজটি ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়েছিল। হঠাৎ গত কয়েকটি পূর্বে এটি ভেঙ্গে পড়েছে। এই ব্রীজ দিয়ে দুইটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। কাছাকাছি বিকল্প সড়ক না থাকায় সুপারি গাছ বিছিয়ে কোনমতে চলাচল করা হয়। ঝুকিতে আছে ছোট ছোট স্কুল ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা। ব্রীজের পাশের বাসিন্দা মোঃ সুলতান মাহমুদ বলেন, এই ব্রীজটি খুবই গুরুপ্তপূর্ন। এটি পাচটি গ্রামের একটি সংযোগ সেতু। এখান থেকে ইদেলকাঠি,মাদ্রা,জলাবাড়ী,বালিবাড়ী ও শান্তিরহাট বাজারে চলাফেরা করা হয়। ব্রীজটি গত সপ্তাহখানে পূর্বে ভেঙ্গে পড়ায় রাস্তা দিয়ে এখন কোন গাড়ী সাইকেল বা রিক্সা চলতে পারেনা। এতে বিশেষ দুর্ভোগে পড়েছে অসুস্থ মানুষ ও কৃষক ভাইয়েরা।
তরুন সমাজ সেবক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচটি গ্রামের ভরসা এই এখানকার এই ব্রীজটি। ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ায় চরম দুর্ভোগে এখানকার বাসিন্দারা। ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ায় কোন রকমের পায়ে হেটে চলাচলের জন্য খালের উপর সুপারি গাছ বিছিয়ে রাস্তাটি ব্যবহৃত হচ্ছে। সব সময় ঝুকির মধ্য স্থানীয় মাদরাসা ও স্কুলগামী ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। ব্রীজটি অতিদ্রুত নির্মান না হলে আসছে বর্ষা ও পানি মৌসুমে দুর্ভোগ হবে পাহাড়সম। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন সমদ্দার বলেন, ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই দুর্ভোগে আছেন। ব্রীজ ভাঙ্গার কারনে এই রাস্তায় কোন যান চলাচল করতে পারেনা। এতে এখানকার বাসিন্দারা অসুস্থ রোগী নিয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে কথা বলছি। এখন পরিষদ যা করে।
