আজিজুল ইসলাম, চিফ রিপোর্টার।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় বাইশ বস্তা সুপারি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার একমাত্র সাক্ষীকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি উপজেলার ৮নং সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের সেহাংগল এলাকায়। ভুক্তভোগী গৃহিনী জেসমিন আক্তার (২৮) বাদী হয়ে রেজওয়ান আহম্মেদ লিটুসহ চারজনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেসমিন আক্তার ও তার স্বামী বিভিন্ন এলাকা থেকে সুপারি সংগ্রহ করে শুকিয়ে বাজারজাত করতেন। প্রতিদিনের মতো গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তারা ২২ বস্তা সুপারি শুকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রেজওয়ান আহম্মেদ লিটুর ঘরে সংরক্ষণ করে বাড়ি ফিরে যান।
পরদিন সকালে সুপারি আনতে গিয়ে তারা দেখতে পান ঘরের দরজা তালাবদ্ধ। পরে লিটু দরজা খুললে ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়, সেখানে রাখা ২২ বস্তা সুপারি নেই। তবে ঘরের দরজা-জানালায় কোনো ভাঙচুরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র অক্ষত ছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেজওয়ান আহম্মেদ লিটু দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং হয়তো চোরে সুপারি নিয়ে গেছে। তবে বাদীর অভিযোগ, ঘটনার সময় বিবাদীরা বাড়িতেই অবস্থান করছিল এবং তাদের যোগসাজশেই সুপারিগুলো আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিখোঁজ সুপারির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এদিকে মামলার একমাত্র সাক্ষী মো. ইউনুস (৪২) অভিযোগ করেছেন, মামলার ৪ নম্বর বিবাদী সাদ্দাম হাওলাদার তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তাকে মামলায় সাক্ষ্য না দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণনাশসহ মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে এ বিষয়ে সাদ্দাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার বলেন, সুপারি ব্যবসাই আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। লিটুর অনুমতিতেই তার ঘরে সুপারি রাখা হতো। এই ঘটনায় আমরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আবার সাক্ষীকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান জানান, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষীকে হুমকির অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
