নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ঝুঁকি বিশ্লেষণে দেশের ৪৫টি সংসদীয় আসনকে “মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে পিরোজপুর–২ আসন (কাউখালী-ভাণ্ডারিয়া-নেছারাবাদ)।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচন ঘিরে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ চলছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং কোথাও কোনো ঘাটতি বা উত্তেজনার লক্ষণ দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ প্রশাসনকে অবহিত করা হচ্ছে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে। মাঠ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিমুক্ত আসনের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করছে পুলিশ।
নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পিরোজপুর–২ আসন বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), আওয়ামী লীগ ও মুসলিম লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ফলে আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে। দুই পক্ষই মাঠপর্যায়ে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে এবং জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী আলহাজ আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার পিতার রাজনৈতিক অবদান ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শামীম সাঈদী বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও আবেগকে কেন্দ্র করে সমর্থন সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে ভাসমান ভোটার এবং যেসব দলের প্রার্থী নেই, তাদের সমর্থন নিজেদের পক্ষে টানতে দুই পক্ষই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদিকে একজন স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিও স্থানীয় সমীকরণে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও ছোটখাটো উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। ব্যানার ছেঁড়া, প্রচারযান নিয়ে বিরোধ এবং সমর্থকদের মধ্যে সীমিত সংঘর্ষের মতো কয়েকটি ঘটনার তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আসনটিকে মাঝারি ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় এই আসনে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যেকোনো উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
