সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে “সরকারি কর্মচারী স্বামীর পরকীয়ায় বাধা, নির্যাতনের শিকার স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার প্রতি আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উক্ত সংবাদটি একতরফা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার অধিকাংশই আমার স্ত্রীর ব্যক্তিগত বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি মূলত একটি পারিবারিক বিরোধ, যেখানে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা যাচাই না করেই এবং আমার বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন না করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমার সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত পরকীয়া, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত ঘটনা হলো, আমার শ্যালিকার স্বামী অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার ঋণে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি পরিবারসহ আমার কাছে এসে জীবন রক্ষার আবেদন জানান। আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে এবং আমার স্ত্রীর অনুরোধে আমি তাদের সহায়তার উদ্দেশ্যে নিজ নামে, স্ত্রীর নামে এবং পরিচিতজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করি।
পরবর্তীতে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে পারিবারিক দ্বন্দ্বে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়। ঘটনার দিনও ওই অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, সংবাদ প্রকাশের আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। শুধুমাত্র একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। আমি মনে করি, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত ছিল।
আমি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বিষয়টি পুনরায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাই প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।
রনজিৎ হালদার
