পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ ও সফল উদ্যোক্তা রোটারিয়ান এ কে এম সামসুল হক দীপু। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীবান্ধব ভাবমূর্তি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ইতোমধ্যে ইউনিয়নবাসীর মাঝে গভীর আস্থা ও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ ভোটারদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে তিনি একজন অত্যন্ত যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী।
১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি নেছারাবাদ উপজেলার সেহাঙ্গল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এ কে এম সামসুল হক দীপু। তার পিতা মরহুম মোঃ হাশেম আলী মাস্টার ছিলেন একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান শিক্ষক। মাতা মিসেস আছিয়া বেগম ছিলেন দানশীল ও পরহেজগার নারী, যিনি সন্তানদের সুশিক্ষায় দীক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ১৯৮৭ সালে কাউখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন, ১৯৮৮ সালে সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে তিনি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শহীদুল হক জামালের পক্ষে তিনি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে তার পরিবারের বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুরের অন্যতম বিশ্বস্ত প্রতিনিধি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তার রয়েছে বিশাল অভিজ্ঞতা। তিনি ASA-এর ম্যানেজার, SH Castle & Resort-এর ম্যানেজার, গ্রামীণফোনের এজেন্ট, SMKK-এর কো-অর্ডিনেটর, DEVELOPMENT OF ILLITERATE PEOPLE & UNFORTUNATE-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, Chicken Hut Restaurant এবং Total Event Management-এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সক্রিয় সদস্য ও ‘Paul Harris Fellow’ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পোলিও প্লাস কমিটির মাধ্যমে দেশ থেকে পোলিও নির্মূলে দীর্ঘকাল ধরে বিশেষ অবদান রেখে আসছেন।
নির্বাচনে প্রার্থিতা ও ইউনিয়ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলাপকালে এ কে এম সামসুল হক দীপু তার অনুভূতি ও প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন “আমি ক্ষমতার লোভে কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাই না। সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের সেহাঙ্গল গ্রামের মাটিতে আমার জন্ম, এই মাটি ও মানুষের প্রতি আমার একটি আজীবন ঋণ রয়েছে। আমার পিতা হাশেম আলী মাস্টার সারাজীবন মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছেন, সৎ ও আদর্শিক জীবন পার করেছেন। আমি পিতার আদর্শ এবং মায়ের দেওয়া সুশিক্ষা বুকে ধারণ করে ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমি জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়েছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আমাদের পরিবার সরাসরি অবদান রেখেছে এবং বর্তমানে পিরোজপুর-২ আসনের জননেতা আহম্মদ সোহেল মনজুর ভাইয়ের একজন বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দল যদি আমাকে সমুদয়কাঠী ইউনিয়নে মূল্যায়ণ করে এবং জনগণের দোয়া ও সমর্থন পাই, তবে এই ইউনিয়নকে পিরোজপুর জেলার মধ্যে একটি রোল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। আমি দীর্ঘদিন বিভিন্ন বড় বড় সামাজিক, আন্তর্জাতিক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। রোটারিয়ান হিসেবে আর্তমানবতার সেবা করেছি। আমার এই দীর্ঘ সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে আমি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই। নির্বাচিত হতে পারলে দলমত নির্বিশেষে যুবসমাজের কর্মসংস্থান তৈরি করা, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের সকল স্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
