নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুর-২ সংসদীয় আসন (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন। তিনি বর্তমানে ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন। এর আগে গত ৩ নভেম্বর ঘোষিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায়ও তার নাম ছিল। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে পিরোজপুর-২ আসনে তার মনোনয়ন বহাল রাখা হয়।
আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নূরুল ইসলাম মঞ্জুরের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নূরুল ইসলাম মঞ্জুর নবম সেক্টরের বেসামরিক প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মনোনয়ন ঘোষণার পর নেছারাবাদ তথা স্বরূপকাঠি উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে মনোনয়নকে স্বাগত জানালেও, অন্যদিকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সংকট ও নেতৃত্বগত দ্বন্দ্ব এখনো পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও নেছারাবাদ উপজেলায় দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামাতে হলে অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন জরুরি। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন বলেন, চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের জন্য তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদের জনগণ ও নেতাকর্মীদের ঐক্যের মাধ্যমে এই আসনে বিএনপি বিজয় অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদী।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পিরোজপুর-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিরোধিতা বা শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
