অভিভাবকদের উদ্বেগের মাঝেই হয়েছে পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় মঙ্গলবারও (২ ডিসেম্বর) স্বরূপকাঠীর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলেছে। তবে পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী অনেক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা নেওয়া হয়, যা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরনের উদ্বেগ।

সকালে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে,গত ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

স্বরূপকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসিনা মমতাজ ও সুজন সমদ্দার বলেন, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এই তিন দফা দাবি পূরণ না হলে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে স্বরূপকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, লাইব্রেরীতে সহকারী শিক্ষকরা বসে থাকলেও দ্বিতীয় তলা ও পাশের ভবনের কক্ষে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক সীমা রানী হালদার নিজেই কক্ষ পরিদর্শন করে পরীক্ষা পরিচালনা করছেন। এ কাজে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য তাকে সহায়তা করছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক অস্বস্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মেহবুবা পাপড়ি নামে এক অভিভাবক বলেন, আমিও এক শিক্ষক। সহকারি শিক্ষকদের দাবির বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইনা। তবে বাচ্চাদের পরীক্ষার সময় তারা এমনটি না করলেও পারতেন। এতে পরীক্ষায় বিগ্ন ঘটে।

দাবি আদায়ের সময়ে পরীক্ষা নেওয়া যেত কি না জানতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, সরকার দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো পরিপত্র জারি হয়নি। তাই আমাদের হাতে আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই। আমরা চাই সরকার দ্রুত আমাদের দাবি পূরণ করুক, আমরাও বাচ্চাদের ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে চাই।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকায় শিক্ষা অফিসের অনুরোধে প্রধান শিক্ষকদের সহযোগিতা করছি। পরীক্ষাও জরুরি তাই বাচ্চাদের শিক্ষাজীবন বন্ধ রাখতে চাই না।

প্রধান শিক্ষক সীমা রানী হালদার বলেন, সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন না। তাই আমাকেই সব কক্ষে গিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিদ্যালয় কমিটি সহযোগিতা করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসিম আহমেদ স্বরূপবার্তাকে জানান, উপজেলার মোট ১৭০টি বিদ্যালয়ে আজ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তিনি কিছু বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন এবং দেখেছেন কিছু স্থানে শিক্ষকেরা আংশিক সহায়তা দিচ্ছেন, অন্যগুলোতে অভিভাবক ও কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা চলছে। তবে অভিভাবকদের দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিতে তিনি সমস্যার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, বাচ্চাদের স্বার্থেই পরীক্ষাগুলো চালিয়ে নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের মোটিভেট করার চেষ্টা করছি। আশা করি পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও সুষ্ঠুভাবে নেওয়া যাবে।

শিক্ষক-অভিভাবক উভয়পক্ষই দ্রুত সমাধানের আশা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আর ব্যাহত না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *