প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোমলমতি শিশুদের জিম্মি করে পরীক্ষা বন্ধ রেখে কিছু শিক্ষক যে আন্দোলন নামক খেলা শুরু করেছেন,তা কোনো সচেতন নাগরিক, অভিভাবক কিংবা সাধারণ মানুষের কাম্য হতে পারে না।
আজ প্রশ্ন উঠছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আসলেই কতজন নিজেদের কর্মে সত্যিকার অর্থে প্রোডাক্টিভ? যদি প্রাথমিক স্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হতো, তাহলে কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা বা নূরানী প্রতিষ্ঠানে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ভিড় জমাতো না।
যেখানে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের একজন শিক্ষক মাত্র পাঁচ-সাত হাজার টাকা বেতনে থেকেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখেন, সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫–৩০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া সহকারী শিক্ষকরা কেন সেই মান বজায় রাখতে পারছেন না! এ প্রশ্ন আজ বৃহত্তর জনমনে আরও তীব্রভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
শিক্ষা হলো মানুষ গড়ার ক্ষেত্র, ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্থান। সেখানে শিশুদের জীবন, পড়াশোনা ও মানসিক অবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে কোনো ধরনের স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি কিংবা সময় বেছে নেওয়া আন্দোলন থেকে জাতি কখনোই গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারে না।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবির আন্দোলন নিয়ে বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষানুরাগী এবং সচেতন মহলের অভিমত শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতে দিতেই পারতেন আন্দোলনকারীরা। তাহলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতো না।
দিনের শেষে একটি কথাই স্পষ্ট, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। তাই এই পেশাকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বলি না করে, শিশুদের ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া-এটাই জাতির প্রত্যাশা।
সাইফুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক, সবার আগে বলদিয়া টিম
নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
স্বরূপবার্তায় প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণই লেখকের নিজস্ব, এর দায়ভার স্বরূপবার্তা বহন করে না।
