স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার হলে একাই প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সহকারী শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭৩ শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা একাই নিতে হয়েছে প্রধান শিক্ষক সীমা রানী হালদারকে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে ও পরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও শিক্ষকদের দুই দফা হাতাহাতি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

সকালে সহকারী শিক্ষকরা উপজেলা সহকারী সার্কেল এসপি অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এসময় বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সহকারী শিক্ষক না থাকায় প্রশ্নপত্র বিতরণ, উপস্থিতি যাচাই, উত্তরপত্র সংগ্রহ, কক্ষ তদারকি সব দায়িত্ব একাই সামলাতে হয়েছে প্রধান শিক্ষককে। এতে পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয় এবং শিক্ষক সীমা রানী হালদার চরম ভোগান্তির শিকার হন।

তিনি বলেন, এত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা একা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। কমিটির সদস্যরা গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের চেনে না, ফলে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।”

সহকারী শিক্ষক হাসিনা মমতাজ ও সুজন সমদ্দার জানান,আমাদের তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরীক্ষার দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি না।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, শিশুদের ক্ষতি হোক তা চাই না। তাই প্রধান শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। উত্তেজনা বাড়তে না দেওয়া জরুরি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসিম আহমেদ বলেন,সহকারী শিক্ষকদের দাবি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষক-অভিভাবক সংঘর্ষ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।

স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অভিভাবক-শিক্ষক-প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা রয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *