পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ইএসপি ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ছাগল ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকেদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সবাই একমত হন। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা।
এর আগে গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন কয়েকটি ছাগল শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। ছাগলগুলো শ্রেণিকক্ষে মলমূত্র ত্যাগ করায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি। পরে শিক্ষার্থীরা ছাগলগুলো শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল সুতারকে মোবাইল ফোনে গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে গুয়ারেখা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক লিটন শেখের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে লিটন শেখের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
প্রধান শিক্ষক নির্মল সুতার অভিযোগ করেন, ছাগলগুলো শ্রেণিকক্ষে ঢোকার পর শিক্ষার্থীরা সেগুলো বাইরে বের করে দেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য বিএনপির নেতাদের জানানো হয়। তবে ঘটনার রাতে লিটন শেখ তাকে মোবাইল ফোনে গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে লিটন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়টি তার বাড়ির পাশে হওয়ায় আকস্মিকভাবে পাঁচটি ছাগল বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাগলগুলোকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে একটি খোঁয়াড়ে দিয়ে আসে। তিনি সেখান থেকে ছাগলগুলো ফিরিয়ে আনেন।
লিটন শেখের দাবি, বিদ্যালয় চলাকালীন দপ্তরির মাধ্যমে ছাগলগুলো বাইরে বের করে দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দিয়ে দূরে নিয়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার সময় উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
এর আগে গুয়ারেখা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান জানিয়েছিলেন, স্কুলে ছাগল ঢোকাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ প্রভাব বিস্তার করলে তার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অবশেষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসান হওয়ায় বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। উভয় পক্ষও ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিরোধে না জড়িয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
