পিরোজপুরের নেছারাবাদে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে এক নারী ও তাঁর খালাকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর, স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়াসহ হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিমলা আক্তার ওরফে সালমা নেছারাবাদ থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
অভিযোগে শহিদুল ইসলাম বালী নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সারেংকাঠী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গবিন্দগুহকাঠী এলাকায়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও তা মীমাংসা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরই জেরে ঘটনার দিন শহিদুল ইসলাম বালীসহ কয়েকজন হাতে কুড়াল, দা ও লাঠি নিয়ে বাদীর বসতঘরের সামনে প্রবেশ করেন।
বাদীর অভিযোগ, এ সময় আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। একপর্যায়ে শহিদুল ইসলাম কুড়ালের বাট দিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। আঘাত ঠেকাতে বাম হাত দিয়ে প্রতিরোধ করলে কব্জির ওপরের অংশে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, নিয়ে যান প্রধান আসামি। তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাঁর খালা নুর জাহান বেগমকেও মারধর করা হয়। পরে বসতঘরে ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।
তাঁদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত সিমলা আক্তার ও তাঁর খালাকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সিমলা আক্তারকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় এবং তাঁর খালাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বালির নম্বরে একাধিক বার কল দিলেও সে রিসিভ করেননি যে কারনে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কিছু ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
