পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের চন্দন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার, ঋণের টাকা পরিশোধ না করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মের যে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চন্দন চক্রবর্তী।
এক প্রতিবাদলিপিতে চন্দন চক্রবর্তী বলেন, প্রকাশিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, কারও টাকা আত্মসাৎ, চাকরি, টিউবওয়েল, বদলি কিংবা ঋণের টাকা নিয়ে অনিয়মের যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেসবের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য, নথিপত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ থাকবে প্রমাণসহ আইনগত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করুন। প্রমাণ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করে একজন ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা অনুচিত।’
চন্দন চক্রবর্তী আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেছারাবাদ উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দৈহারী ইউনিয়ন শাখা এবং সাবেক সভাপতি, ঠাকুর হাওলা আমতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট পিরোজপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র যুব ফ্রন্ট পিরোজপুর জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমার দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। আমার রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করার প্রশ্নই ওঠে না। আমি দলের ভাবমূর্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চাওয়ার বিষয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে তা যথাযথ নিয়ম ও আইন মেনেই হবে। তবে তাকে ঘিরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।
চন্দন চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ভুয়া ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অভিযোগের সঙ্গে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী, লিখিত অভিযোগ, মামলা, প্রশাসনিক তদন্তের নথি কিংবা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তাই এসব অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট সবার উচিত তথ্য যাচাই করা।’
তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তার বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হোক এবং ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা হোক।
চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছি। সত্য ও মিথ্যা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমি যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
তিনি একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানান, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার বা শেয়ার না করতে।
