নেছারাবাদে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা ও হয়রানীর অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুলাল আচার্য্য মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে স্থানীয় একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল আচার্য্য জানান, ১৯৯৫ সালের ৯ জানুয়ারি স্বরূপকাঠি মৌজার জে.এল নং-১৪ এর বি.এস ১৮০ নং খতিয়ানের ১০ শতাংশ জমি রেনু বালার কাছ থেকে ক্রয় করেন তিনি। এরপর সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সুব্রত আচার্য্য তাকে বাড়ি থেকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। বাড়ির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ভরাট হওয়া সরকারি খালের ওপরের রাস্তার জায়গা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেন সুব্রত। এ নিয়ে হয়রানীর অংশ হিসেবে দুলাল আচার্য্য ও তার ছেলে দিবাকর আচার্য্যের বিরুদ্ধে পিরোজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে সুব্রত পরাজিত হন।

পরবর্তীতে তিনি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৬০/২৩ নং মামলা দায়ের করলেও সেখানেও রায় তার বিপক্ষে যায় বলে অভিযোগ করেন দুলাল। এছাড়া সুব্রত আচার্য্যের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলার চেষ্টা হলে দুলাল আচার্য্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন, যেখানে বিবাদীরা মুচলেকা দেন।

এদিকে জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা ও খাল দখলের অভিযোগে মো. খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপি কেস নং-৩২১/২০২৫ দায়ের করলে সেই মামলার রায়ও সুব্রতের বিরুদ্ধে যায় বলে জানা যায়। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি সিভিল রিভিশন মামলা (নং-৪৩২৮/২০২৫) উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দুলাল আচার্য্যের ছেলে দিবাকর আচার্য্য বলেন, মিথ্যা মামলা ও ধারাবাহিক হয়রানীর কারণে আমাদের শিক্ষা ও কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবুল হালদার।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুব্রত আচার্য্যের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়, ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *