পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিয়ের দাবিতে এক তরুণীর আব্দুল্লাহ আল ইমনের বাড়িতে অবস্থানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানা তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগকারী তরুণী মারজিয়া ও অভিযুক্ত ইমনের পরিবারের বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্প্রতি নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল ইমনের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন মারজিয়া নামে এক তরুণী। এ ঘটনায় তিনি ইমনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগ করেন।
তবে ইমনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে। ইমনের বাবা তাজুল ইসলাম দাবি করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে তার মেয়ের এক বান্ধবী হিসেবে মারজিয়ার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এর আগে তাদের পরিবারের সঙ্গে মারজিয়ার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
তাজুল ইসলামের দাবি, মারজিয়া গণমাধ্যমে তিন বছরের প্রেমের সম্পর্কের কথা বললেও তাদের জানামতে বিষয়টি এমন নয়। তিনি আরও দাবি করেন, মারজিয়ার পূর্বের বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। এ বিষয়ে একটি ডিভোর্সের কাগজে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি জানান।
ইমন বলেন, প্রায় এক বছর আগে মারজিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর মারজিয়া মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন বলে দাবি করেন তিনি। ইমনের ভাষ্য, মারজিয়া তাদের এলাকায় দেখা করতে এলেও তার সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্ক ছিল না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
ইমনের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মারজিয়ার পূর্বে একাধিক বিয়ে হয়েছিল। তবে মারজিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মারজিয়া বলেন, রিয়াজুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর ইমনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইমন তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলেই তিনি ইমনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তার প্রায় দুই বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ডিভোর্সের কাগজে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকায় তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল ইমনের পরিবারের এমন দাবিও অস্বীকার করেছেন মারজিয়া।
ইমনের বাবা তাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, “ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
