গুয়ারেখা প্রতিনিধি: গুয়ারেখা ইউনিয়নে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনগত সহায়তা চেয়েছেন।
অভিযোগকারী সুমা রানী মন্ডল (৪৬) গাজিয়া গ্রামের বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিষয় ও সমবায় সমিতির টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অনুপ মন্ডল (৩৫), অবনী মন্ডল (৬০), অর্চনা মন্ডল এবং পাপিয়া সুতারের (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি গাজিয়া গ্রামে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, সুমা রানী মন্ডলের স্বামী নৃপেন মন্ডল স্থানীয় আরামকাঠী ঋণদান সমবায় সমিতিতে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্তরা ওই সমিতির সদস্য হিসেবে ঋণ গ্রহণ ও সঞ্চয় রাখলেও পরবর্তীতে সমিতির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার জন্য অভিযুক্তরা সুমা রানী মন্ডল ও তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এর আগেও অভিযুক্তরা একাধিকবার তাদের পরিবারকে মারধর, হুমকি ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তার বসতঘরে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে মারধর করে। এতে সুমা রানী মন্ডল গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার স্বামী নৃপেন মন্ডলকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পান।
অভিযুক্তরা টাকা না পেলে পুরো পরিবারকে হত্যা এবং ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর সুমা নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
সুমা রানী মন্ডল বলেন, অভিযুক্তদের হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অনুপ মন্ডলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নেছারাবাদ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তারা।
