নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুর–২ সংসদীয় আসনে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন ভোটার উপস্থিতি। কারণ এই আসনে কে জিতবে, তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে কত মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, যখন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে এবং ভোট নিয়ে আস্থা তৈরি হয়েছে, তখন এই আসনে ভোটার উপস্থিতি ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। আবার যখন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে বা ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তখন উপস্থিতি নেমে গেছে ৫০ শতাংশের নিচে।
এই আসনে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখের বেশি। এত বড় ভোটার ভিত্তির এলাকায় কম ভোটার উপস্থিতি মানে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন না হওয়া। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ভোটার কেন্দ্রে না এলে নির্বাচন কার্যত আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয় এবং ফলাফল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিতর্ক তৈরি হয়। পিরোজপুর–২–এর মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর আসনে এমন পরিস্থিতি আরও বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে একটি নতুন প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার কারণে অনেক ভোটারের ধারণা, এবার ভোট চুরি বা জালিয়াতির ঝুঁকি কম থাকবে। পাশাপাশি বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা নতুন ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি। এই দুইটি বিষয় মিলিয়ে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রবাসী ভোটার। পিরোজপুর–২ আসনের ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ভোটার রয়েছেন। যদি ডিজিটাল বা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের অংশগ্রহণ বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে মোট ভোটার উপস্থিতির হার স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। যদিও এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবুও এটি ভোটার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ভোটার উপস্থিতি ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ হয়, তাহলে মোট কাস্ট হওয়া ভোট দাঁড়াবে আনুমানিক ৩,০৭,০০০ থেকে ৩,২৭,০০০ ভোটের মধ্যে। এখন এই ভোটের ওপর ভিত্তি করেই জয়ের অংক বদলে যাবে।
যদি নির্বাচন দ্বিমুখী লড়াই হয়, অর্থাৎ মূলত দুইজন শক্ত প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়, তাহলে জয়ী হতে হলে মোট ভোটের অর্ধেকের একটু বেশি দরকার হবে। সে হিসেবে ৭৫–৮০ শতাংশ ভোট পড়লে জয় নিশ্চিত করতে একজন প্রার্থীকে প্রায় ১,৫৫,০০০ থেকে ১,৬৫,০০০ ভোট পেতে হবে। এর নিচে থাকলে ব্যবধান খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।
