ভরতকাঠী–শ্রীরামকাঠী খেয়া ঘাট উন্মুক্ত ইজারার দাবি এলাকাবাসীর

পিরোজপুর জেলা পরিষদ চলতি বছরেও ভরতকাঠী থেকে শ্রীরামকাঠী খেয়া ঘাট ইজারার আওতায় না আনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ঘাটটি ইজারা প্রদান না করায় এর ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভরতকাঠী ও শ্রীরামকাঠী এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই খেয়া ঘাট ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হলেও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নিয়মিত ইজারার ব্যবস্থা না থাকায় ঘাট পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নেই। ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, ইজারা না থাকায় ঘাটে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অনিয়মিতভাবে ভাড়া আদায়ের ঘটনাও ঘটছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই ঘাট আমাদের এলাকার প্রাণ। কিন্তু ২০ বছর ধরে জেলা পরিষদ কোনো স্থায়ী সমাধান দিচ্ছে না। আমরা চাই উন্মুক্তভাবে ইজারা দেওয়া হোক, যাতে সঠিকভাবে ঘাট পরিচালিত হয় এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পায়।”

এলাকাবাসীর মতে, উন্মুক্ত ইজারা প্রদান করা হলে একদিকে যেমন ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারের আয় বাড়বে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কমবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পিরোজপুর জেলা পরিষদ–এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ খেয়া ঘাট উন্মুক্ত ইজারার আওতায় আনবে।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন খেয়া ঘাট প্রতি বছর ইজারার আওতায় আনা হলেও ভরতকাঠী–শ্রীরামকাঠী ঘাটটি দীর্ঘদিন ধরে এর বাইরে রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *