নির্বাচনের সময় নিয়ম অনুযায়ী ইশতেহারে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বিজয়ের আশায় প্রার্থীরা যুগ যুগ ধরে এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়; বরং রাজনীতির এক স্বীকৃত ও প্রচলিত বাস্তবতা। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো—নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর যদি একজন সাংসদ তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির সবকিছু বাস্তবায়ন করতে নাও পারেন, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেই তাকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি বলা যায়।
দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সবসময় নজর রাখে নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা কী কী উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেগুলোর কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে বা হবে। আমি মনে করি, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
পিরোজপুর-২ আসনের সাংসদ ও বর্তমান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন পিরোজপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। নেছারাবাদ উপজেলার ভোটাররা সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। পিরোজপুর-২ আসনে তার এই বিজয় যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি এমপি হওয়ার পরপরই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে স্মরণীয় ঘটনা। এটি যেমন পিরোজপুরবাসীর জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়, তেমনি দেশবাসীর কাছেও ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে তিনি এখন আর শুধু পিরোজপুর-২ আসনের প্রতিনিধি নন; একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্বের পরিধি জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেই তার কাছে প্রত্যাশা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক।
আমরা তার দেওয়া সব প্রতিশ্রুতির তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছি না। নেছারাবাদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অন্তত একটি আধুনিক ও উন্নতমানের ৩০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে তিনি যেন তার মেয়াদকালে বিশেষ গুরুত্ব দেন। এটাই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা। আমাদের দীর্ঘ বিশ্বাস তিনি পারবেন। কারন নির্বাচনকালীন তার চোখ মুখে দেখেছি পিরোজপুরের অবহেলিত জনপদকে সাজানোর স্বপ্ন। আমরা দেখেছি তার দৃড়তা ও মানুষের প্রতি ভালবাসা
কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, দায়িত্ব পাওয়ার এত অল্প সময়ের মধ্যেই এমন দাবি তোলা কি উচিত? প্রশ্নটি যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু এই দাবি হঠাৎ করে নয়; নেছারাবাদে ৩০০ শয্যার একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা নেছারাবাদবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা।
নেছারাবাদ উপজেলার পাশ্ববর্তী বানারীপাড়া, নাজিরপুর, কাউখালি, এমনকি সীমান্তবর্তী ঝালকাঠি থেকেও এখানে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। কাগজে-কলমে এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তবে মাত্র ১৯টি বেড রয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায়। এতে চিকিৎসকদেরও হিমশিম খেতে হয়। বারান্দা, সিঁড়ির পাশে, এমনকি গেটের সামনেও রোগীরা হোগলা বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। অনেকে এই গিঞ্জি পরিবেশ দেখে নিরুপায় হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন—যা অধিকাংশ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
সর্বোপরি, একজন জনপ্রতিনিধির সফলতা শেষ পর্যন্ত মাপা হয় তার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে। আর গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং জনগণের প্রত্যাশাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা।
হাবিবুল্লাহ মিঠু
সাংবাদিক ও লেখক
