নিজস্ব প্রতিবেদক: পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নকে ঘিরে নেছারাবাদে দলের মধ্যে প্রকাশ্য বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে একই সময়ে দুই গ্রুপ পৃথক কর্মসূচি পালন করায় বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের সমর্থনে তার অস্থায়ী কার্যালয়ে মহিলা দলের উদ্যোগে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়, অন্যদিকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহমুদ হোসেনের সমর্থনে নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের সামনে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে তার নেতাকর্মীরা।
মাহমুদ হোসেনপন্থীরা অভিযোগ করেন, তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রচার কার্যক্রমের সময় গত রোববার তাদের ওপর হামলা করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে তারা সোমবার প্রতিবাদ সভা করে। সভায় বক্তারা দাবি করেন, পিরোজপুর-২ আসনে ‘বারবার জামানত হারানো একটি পরিবারের’ সদস্যকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা হিসেবে মাহমুদ হোসেনই প্রার্থীতার জন্য উপযুক্ত। এ সভায় পৌর বিএনপি, উপজেলা বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং মহিলা দলের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে মহিলা দল নেছারাবাদ উপজেলা ও স্বরূপকাঠী পৌর শাখার ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় বক্তারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তার পক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মনোনীত প্রার্থী সোহেল মঞ্জুর সুমন। বক্তৃতা দেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহিদা বেগম, সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাঁসি, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা।
একই সময়ে দলীয় দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নেছারাবাদ বিএনপির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য থাকলেও প্রার্থিতা নিয়ে এই বিরোধ প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন বিভক্তি দলীয় ঐক্য ও প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
