স্বাধীনচেতা জীবনযাপন করতে চেয়েছিলাম বলেই নিজের অজান্তেই কখন যে সংবাদকর্মী হয়ে গেলাম, তা টেরই পাইনি। ভাবতে গিয়ে আজ একটু পিছনে ফিরে তাকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করি—লেখাপড়া করে আসলে কী শিখলাম, আর কী করলাম?
সার্টিফিকেটের পাতায় অনেক কিছু লেখা আছে, কিন্তু জীবনের পাতায় তার কতটুকু কাজে লেগেছে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। শিখেছি প্রশ্ন করতে, সত্য খুঁজতে, অন্যায়ের সামনে দাঁড়াতে। যদিও সন্দেহ হয়, আদৌ তার সিকিভাগও কি পেরোতে পেরেছি? কারণ মফস্বল সাংবাদিকতা সহজ নয়; এটা তারা (টেবিলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা) বুঝবে না। তারা যদি মাঠের বাস্তবতা বুঝত, তাহলে অন্তত একটু হলেও মফস্বল সংবাদকর্মীদের মূল্যায়ন করত।
যাক, সে কথা থাক। কথায় বাড়ে কথা, আর কিছু লিখতে গেলে হয়তো কারও ব্যথাও লাগতে পারে।
যে বিষয়টি নিয়ে বলছিলাম—এই অজানা পেশায় জড়িয়ে আমি যা বুঝেছি, এই পথ মোটেও সহজ নয়। এখানে নেই নিশ্চিত আয়, নেই আরামদায়ক কোনো নিশ্চয়তা। আছে শুধু দায়বদ্ধতা আর বিবেকের চাপ। সে চাপ এড়িয়ে গেলে বিবেকের কাছেই কখনো ক্ষমা পাওয়া যাবে না। আবার অনেক সময় নিজের নয়, পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বিষয় এড়িয়ে যেতেও হয়; তবে দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী হলে কোনোমতেই নয়। হোক যত ভয়—তবুও কলম ধরি। কারণ যখন কোথাও অসহায়, অধিকারবঞ্চিত মানুষ কথা বলার সুযোগ পায় না, যখন নীরবতা জেঁকে বসে, তখনই আমাকে সরব হতে হয়।
ভাবি, হয়তো এটাই আমার শেখা। জীবন মানে শুধু নিজের জন্য বাঁচা নয়; অন্যের গল্পও নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। লেখাপড়া আমাকে চাকরি শিখায়নি, ঠিকই—কিন্তু মানুষ চিনতে শিখিয়েছে। আর সেটুকুই হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
হাবিবুল্লাহ মিঠু
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
